Tuesday, September 21, 2010
কালো বেড়াল
তোমার জন্যেই সব্বাই বেঁচে আছি
শুধু, শুধু তোমারই জন্যে
হিসেবের খাপে বেশ দিনগুলো আছে
কখন তুমি এসে আঁচড় দিয়ে যাবে
ঊরুতে চামড়া ছিঁড়ে মাংসের রক্ত দ্যাখাবে
এমন-ই জীবন;
আর সেই জ্বলুনির মুখে
কান্নারও অজুহাত লাগেনা।
ও কালোবিড়াল, শুধু এই ভেবে
এই সময়ের পথে হাঁটা
সব্বারই
কোণার দরোজা থেকে ওই তুমি উঁকি মারো
টিভি সিরিয়ালে ঘেরা এইসব জীবনের মাঝে
কখনও বাস্-এর চাপা দেওয়া
কখনও বা হসপিটাল- ফিনাইল-গন্ধের সাঁঝ,
ও কালো বেড়াল,
সবাই তোমাকে দ্যাখার জন্যে, ওখানেই বসেছে সবাই
মরে যাওয়াটার ঠিক আগে
Monday, June 7, 2010
সমুদ্র ও পাঁচজন আমি
সমুদ্র ও পাঁচজন আমি
(১)
রাতের ঝাউয়ের বন ঘেঁষে বালিয়াড়ির পাদদেশে ধিকধিক বনফায়ার, ওদের পাঁচটা মুখে আগুনের লাল লেগেছিল- এখন আর পাঁচটা মুখ নেই, বিয়ারের তোবড়ানো ক্যান হাতে গোড়ালি ভেজানো ঢেউয়ে আমি-
এ সমুদ্র এমত বেহায়া- তেমনই ওরাও পাঁচজন বন্ফায়ারের হাহা- পাঁচ কেন, ওরা চার, দুজোড়া কপোত-কপোতিনী, আমি তো ব্রাত্য ওই দলে, তবুও তো লোক চাই, দর্শক; নিজেদের প্রেমগুলো নিয়ে দর্শক না দেখলে ফ্যান্টাসি মেটেনা ওদের। ওরাও সমুদ্রের মত- ওই সমুদ্র, চাঁদের জলের রিফ্লেকশন ফসফস ব’লে ভুল হতে থাকে, হাওয়ায় পেট ফাঁপে ছেঁড়া ক্যারিব্যাগ যেন জেলিফিশ- এই সমুদ্র, চাঁদের আলোর পথ করে দেয় মানুষের কাছে, আমার কাছেও- লুনাটিক স্পৃহা সব সেই পথ ধরে হেঁটে গিয়ে অতলে তলিয়ে মরে যায়, মরে, তবু বেঁচে ওঠে তবু এই সমুদ্রের ধারে কাঠের আগুন থেকে হাওয়া বেয়ে ছিটকিয়ে যায় জ্বলন্ত জৈবযৌগ, ব্রেনের পাকগৃহ ঘিরে জৈব রিঅ্যাকশন হয়ে চলে, এসে পড়ে অসহ্য অতীত। এমনই সমুদ্র তার গাঢ় সব দুপুরের বেলাভূমি, স্নানের গহীন আর সেই সব কথা যেগুলো উহ্য রেখে সরে গিয়েছিলো আমার এইখান থেকে, আর কিছু ভাবিনা, আর কোনও স্বপ্ন দেখিনা, আর কোনও কান্না রাখিনি আগুনে- এই সমুদ্র তার ঢেউয়ে ঢেউয়ে, ফ্যানায়, ঝিনুকে শরীরে ছুঁইয়ে দেয় অভুক্ত ফুলের বাগান। ফলের পসরা ছাড়া এ জীবন ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, তাই, বৃষ্টি শুরুর আগে সমুদ্র আমাকে বাড়ি ফেরার বাসে তুলে দেয়।
(২)
এই সমুদ্র ওকে আমার জীবনে জুড়ে দিলো তাই আমি সেদিনের রোদ মনে করে রাত্রিনীল বালির মাঝে ক্যাম্পের আগুন জ্বালালাম। মাথার ওপর দিয়ে চুরি ক’রে স্নান দ্যাখা ঝাউয়েদের দীর্ঘশ্বাস সব, আগুনের ফুল ওড়ে, ওর মুখে গিয়ে বসে উজ্জ্বল প্রজাপতি হয়ে, দারুণ আদর পেয়ে যায় আমাদের সেই কথা গুলো, বড়ো অনুচ্চারে, না শোনার মত করে আঙুলে আঙুল রেখে বলা। বৃষ্টি ভরা সাগর আমার, কেবল তোমারই নামে এঁকে যাবো প্রবল চুম্বন, প্রবল সমুদ্রস্নান, প্রবালের রঙ মনে পড়ে, মনে পড়ে আঙটিতে ঢুকে থাকা কিচ্কিচে বালি অহৈতুকী আধুনিক গানে এই সমুদ্রে এক দিন। একদিনে দুখানি অপর আরও কতো কাছাকাছি এসে যায়, তটবর্তী পাঁচিলের পথ ফাঁকা হয় তখনই নিজের মধ্যিখান থেকে সব আমি ডুবে মরে গিয়ে সেই একজন জেগে ওঠে, গভীর রাত্তিরে ঘুম থেকে উঠে আমি তাকে ভেবে প্রণত হলাম।
###########################################################
ওই পেলিক্যান, শূন্য বিকেল জুড়ে
স্নানখেলা দেখে চলো,
তোমারও অতীত মনে পড়ে।
প্রতিটি বিকেল তার অতীতের
নিঃসঙ্গতা মেখে থাকে অবিরাম ঢেউয়ে।
পেলিক্যান, তুমি জানো নাকি
যখন সবাই শুয়ে পড়ে
এই সাগরের তীরে
অথবা, অন্য কোনওখানে
অন্য তটদেশে বা অন্য কোনও
নিস্তরঙ্গতা জুড়ে
পুরানো হাসির স্বর, ভুলে যাওয়া হাস্কি ভয়েস-
অবিরাম একা একা ঢেউদাগ ধ’রে
পথ হাঁটা- সবই থেকে যায়।
পেলিক্যান, তুমি দেখো, মনে করো
সানরাইজের ভীড়, গুরুভার সূর্যপ্রণাম
আঁচলে যে রঙ লুকিয়েছে
তুমি জানো পেলিক্যান, অন্ততঃ
তোমাকে তো জানতেই হবে
এই সাগরের মতো সেই প্রেমও শরীরিনী
পুরোপুরি রক্তমাংসময়।
(৩)
ঝিরঝিরে বৃষ্টির পথ, কিম্বা ছিটে আসা নুনজল, যার মেমরিতে এখনো কোডেড আছে চোখের গ্রন্থিঘ্রাণ। এই পথ ধ’রে একবার তোকে পেয়ে গেছি, তাই প্রতিটি পদক্ষেপে সর্ষের দানা ছুঁড়ে দিই- এই বৃষ্টিতে সব ফুল ফুটে যায়, এই বালুচরে যেদিকে তাকাস দেখবি হলুদে ফুলে ফুলে এমন স্পষ্ট ক’রে তোর নাম লেখা- আমি ছাড়া কাউকেই ভাববিনা আর। যেমন আমিও। ওই যে দূরে দ্যাখ তারার মতই জলের প্রান্তে সেই আলোখানি জ্বলছে-নিভছে, ওখানেই নিয়ে যাবো তোকে, চারিদিকে জল আর রাত্রি, কাঠের আগুন- ঝলসানো তেলাপিয়া, পোড়াভাত জাহাজীর গুহা। ওইখানে আগুনের লালে তোর মুখে লেখা হয়ে গেলো মুক্তির দারুণ সত্তর। ওই মুখ দেখে যদি সত্যি পতাকা কোনও ভাবি- সেই নিশানকে ঘুম থেকে তুলে জাহাজের পথ ধরে ধরে সমুদ্রমথনে নিয়ে যাবো। মধুময় এমন রাত্তির, মধুঘেরা মুহূর্তখানি- এমনি দারুণ, এত বড়ো কিছু, শুধুই এরই তরে বাকি সবখানি, বিপ্লব, ঘরেফেরা, আর্তের চাকার কামনা- সব মুছে যায়- কেবল গলার কাছে পিরীত কাঁটাটি বিঁধে থাকে। প্রতি দুঃস্বপ্নেই ভাবি- যদি তুই ফেলে চলে যাস, সে কাঁটা ফিরিয়ে দিতে আমি, অনাগত এক সন্ধ্যায় সমুদ্রেরই কাছে নতজানু হবো।
##########################################################
ওহ্ গাংচিল-
হোটেলের নাম রেখে তটদেশে একঠাঁয়ে আছো
তুমিও তো ভূয়োদ্যাখা মাল
এই বেলাভূমি ঘিরে ওদের শরীর দেখে গ্যাছো।
ঝাউয়ের উলম্ব গুঁড়ি
ভেঙে দেয় গোটা ফ্রেমখানি
প্রকোষ্ঠে প্রকোষ্ঠে তার
আমি-রা বন্দী হতে থাকে-
আর ঠিক সেমুহূর্ত থেকে
প্রত্যেকখানি আমি ছিটকে স’রে যাচ্ছে
অতীতে বা না আসা ভবিষ্যে-
শুধু ওই দুজনের মাঝে
প্রেম জেগে আছে বলে
প্রেমময় অপার দয়ায়, দ্যাখো গাংচিল, দ্যাখো
আলাদা আলাদা খোপে, তবু,
একসাথে
এইসময়েই ওরা আছে-
(৪)
ভগবান আছেন বটেই, সমুদ্রতীরে এসে একথাই শুধু মনে পড়ে নাহলে এই ঢেউয়ের শীষে প্রথমদিনের গান জেগে থাকে, এমন মধুর নিয়তিতে এনট্রপি বেড়ে চলে চূড়ান্ত মৃত্যুর দিকে, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে যেই বিন্দু থেকে শুরু করে অনুরূপ কৌণিক অবস্থানে ফিরে আসে নিয়ত সময় বাদে অপরিবর্তনীয় ক্রিয়াপদ হয়ে সুন্দর জেগে ওঠে- ঝাউবন ছোঁয়া হাওয়া আমাদের তুচ্ছ কায়ায় সূর্যের স্মৃতি এনে দেয়- ভগবান আছেন বলেই। ভগবান আছেন বলেই, সৃষ্টির বংশগতি অপরিহার্য সেক্সকথা- যখন শরীরে শরীর এসে লাগে, প্রতি চলনেই তার নূতন শিহর জেগে ওঠে- ভগবান আছেন বলেই, পথ ও অজানা থাকে সময়ও পথের মতই, তারও অজানা একবাঁকে হাত ধরে ফেলেছি তোমার। এখন আমাদের মধ্যিখানে প্রতিদিনই সবখেলা সমুদ্রের রঙে- সেসমুদ্র বিভাজিত হয়, পথ কেটে স্মিত হাসেন গুরুদেব- যুগ্মমস্তকে যুক্ত করেন আশীর্বাদ তাঁর। আর সেই প্রত্যেক ভোরের সমুদ্রে, মঙ্গলঘট হয়ে দিনভানু উদিত হয়েন। সমুদ্ররাত্রি তাঁর বালুকার বিস্ময়খন্ড আমাদের কথা ভেবে রেখে যান। ভোর হবে বলে, এই রাত্রির বুকে আমি, আর সব বন্ধুর মাঝে অদৃশ্য হয়ে যাই, তোমাকেও অদৃশ্য করি। সৃষ্টির শাশ্বতরূপে শুধু এই দৃশ্যমান তটভূমে, ঢেউয়ের উপমা নিয়ে আমি, তুমি, আমরা ম্যাজিক হয়ে যাই।
############################################################
পেলিক্যান মরে গ্যাছে কাল।
না, কোনও শিকারীর বন্দুক নয়, ভাইরাস নয়,
শুধু এক আচমকা ঢেউয়ের আঘাতে
উহার হৃদয় থেমে গ্যাছে।
পচে ওঠা পাখিশব আমাদের সমুদ্র
আজ রাতে ফিরিয়ে দিয়েছে
তাই, হোটেলের ফলক থেকে বেরিয়ে এসেছে গাংচিল
ঠোঁটে করে বালি নিয়ে যায়
তরঙ্গের অন্তিম দাগটিতে
পেলিক্যানকে সমাহিত করে সে-
(৫)
এইসব পাব্লিক শালা, কাজ নেই অকুন্ঠ-সময়খানি তাই অপরের ব্লুফিল্ম রচনায় নিবেদিতপ্রাণ- আর দেখো সারা বছরের ভারে কচ্ছপপিঠ বেঁকে গ্যালো, একটাই সপ্তাহান্ত সাগরসমীপে এসেছিনু। মাছভাজা, বীয়ার আর দুবেলার নুনমাখা চান- এরমাঝে এই মাল-এরা অন্যের প্রেমখানি ধরে, ধ’রে বা বানিয়ে নিয়ে নিজেদের চাহিদামতোই আমার গায়েতে ছুঁড়ে মারে- সমুদ্র, বস্ আমি তো ব্যাপক ছিলাম, তোমাতে আমাতে, বেশ বোঝাপড়া আর মস্তি বা লুকিয়ে পালানো- আমি তো বলিনা কিছু গোপনে লুকিয়ে যা যা চাই। সেসব সরিয়ে রেখে এই যে আরোপিত প্রণয়খানি, বড়ো দুঃসহ লাগে- বড়ো বেশি গুরুভার বেঁকে যাওয়া কচ্ছপ পিঠে- ওই শালা চুতিয়ারা বুঝবেনা, শুধু তুমি, আর, এমন বালের রাত নয়, দুপুরের সূর্য যেই জলে ভেজা বালিতে পিছলে ওদের অন্ধকার করে দেবে তখনই তো শুরু হবে আমাদের আদানপ্রদান। তোমারও কি কম চাপ সোনা- তুমিও যে আমারই মতন- জোয়ারের ক্ষণে তাই জেলেবস্তির কাছে চলে গিয়ে, হোকনা দুপুর, মাল আর মাছভাজা খাবো। সেই ভালো, এইসব ন্যাকাপনা বন্ফায়ার আর ততোধিক চোতা মারা পেরেমের মুখে স্নিকারের তলা ছুঁড়ে মারি। দুটোদিনই এবছরে বাঁচার সময়, ওইসব প্রেমট্রেম মুছে দাও গুরু- চোখ মুছে আমি জুতো খোলা খালি পায়ে তোমার শরীরে নেমে যাবো।
Wednesday, June 17, 2009
পার্কস্ট্রীট
বন্ধুরা তোরা কেউ ঠিক বুঝেছিলি?
বাড়িতে কারুর-ই জানবার কথা নেই
সেদিন প্রথম রোদ্দুর উঠেছিলো।
ছেলেটাও তাই ইস্কুলে যায়নি
এর আগে শুধু একদিন-ই সিনেমায়
সেদিন তো সব বন্ধু-ই গিয়েছিলো
বাড়িতে কি রোজ সবকথা বলা যায়?
বন্ধুরা, তোরা পাসনি খবরটাও
জানুয়ারী শেষে বসন্ত হাওয়া দিলো।
এক একটা দিন ক্রুসেড জেতার পর,
রবীন্দ্রনাথ, আমরা সবাই রাজা
অতো সকালে তো মেট্রো চলেনা, তাই,
ভিক্টোরিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছে হ’লো।
এর পরে থাক গল্পের বাকিটুকু
স্বপ্নের দেশে ডটপেন চলাচলে
ইচ্ছে মতন শেষ থাক, শুরু থাক
দরকারে থাক এখান থেকেই চলা,
দু’পাশে থাকুক ঘুমভাঙা পার্কস্ট্রীট
ব্যস্ততা নিয়ে জাগছে অফিস পাড়া
ইস্কুলে এই পড়া শুরু হ’লো ব’লে –
ফুটপাথে থাক হকারের সম্বিৎ
রাস্তায় থাক সাদারঙ বিদেশিনী,
জিজ্ঞাসু চোখ খুশির শহর খোঁজে
ক্যামেরার লেন্স খুশি হতে সেইদিন
ফোকাস করলো, স্কুলকাটা ভালোবাসা?
কেউ-ই জানেনা গল্পের শেষকথা
কবিতার বুকে বিগ-ব্যাং আছে, থাক
গাছের পাতায় সবুজ রঙের নেশা,
নেশা-নেশা ঘোর এটুকু-ই বলে দিলো
এই পথ ধ’রে পথ হাঁটে কলকাতা -
Sunday, May 31, 2009
তৃতীয় পুরুষ
বাকি সব কথা ভুলে যাচ্ছে মন
দ্যাখো, এখনো অন্যরা সুযোগ মত হাতের পাতায়
ঘটনা পরম্পরা লিখে যায়
আর, এই তটে
পাড়-ভাঙা স্তব্ধতা –
মাটির কাছে, ঘাসের ভিতর সমস্ত বিছিয়ে দিয়েছি
যদিও আমার কাছে কোনো গল্পই ছিলনা,
চুম্বকগুলো সব জমে হিমবাহ হ’ইয়ে গ্যালো।
ওদিকে দ্যাখো,
নষ্ট সময় সন্ধ্যে এলে আরও একলা হ’য়ে পড়ে
অথচ এই সব ছেড়ে দেবো ব’লেই তো
হাত তুলি বন্ধুর দিকে,
বিকেলের ক্যান্টিনে –
না হয় আমার কোনও গল্প নেই কোনও গানও নেই
তবু, কবিতার শেষে কেন একটু নাচেরও অবকাশ থাকবে না!
আবারও সেই ভরসায়
বন্ধুর দিকে দুটো হাত বাড়াই আর,
সবকিছু নষ্ট হ’য়ে আসে
মাথার ভেতর চাষের জমি খরায় ফেটে অঠে
লাঙল সত্যিই বেড়িয়ে যায় মুঠোর থেকে
আর, সমস্ত দিন হার স্বীকারের পর
তখন, সময়েরও ঘেন্না করে।
Tuesday, May 26, 2009
Thermodynamics
ধর্মে কিছু মিল খুঁজে নিই মানুষ এবং গ্যাসে,
পাগলামির এ প্রস্তাবনা পাঠক্রমেই আসে।
গ্যাস শুধু নয় - সবাই যারা চাপ ফেরাতে জানে,
অংক বোঝে, বড়ো কথা, হিসেবগুলো মানে।
শুদ্ধ থাকে, প্রাণপণে তাই, সূত্রে যত বলে
এদিক ওদিক বাওয়ালি হয়, বুক বাঁচিয়ে চলে।
আমরাও তো প্রায় অতটাই গুণে সাধারণ
এত কিছু কাটিয়ে এলাম, চমকালো না মন।
অ্যাই ছেলেরা, হিসেব ক'ষে বসবি ঝিলের ধারে -
(হিসেবগুলো, মেয়ে দেখলে, আওয়াজ দিতে পারে?)
প্রশ্নপত্র বাতিল রাখি, কবিতা নামুক
ভর-টিফিনের ক্যান্টনেতে, আবছা কোনো মুখ।
থাকলাম তাই, অর্থ মেনে পুরোটা কঠিন
ভোর ছোঁয়ালে তরলমতি - গললো নতুন দিন।
হঠাৎ লাগে অন্য বাতাস, সেই কি তোমার ছোঁয়া?
ফুটে ফুটে বাষ্প হলাম - এবার পুরো হাওয়া -
প্রথম দিন, প্রথম বার, গুছিয়ে ঝাঁরি মারা
অ্যাই বেতমিজ, কত দেখছিস! এবার চোখ সরা -
চোখ সরালাম, পথ হারালাম মন সরাতে গিয়ে
ফ্রাস্টু-কাব্য তাই লিখে যাই স্বপ্নের ভুল নিয়ে।
First law: Heat given = work done + change in internal energy
তোমাকে ভালোবেসে আগুনও জ্বলে ওঠেঃ
সবকিছু জিতে আমরা এগিয়ে যাবো -
রাস্তা ফুরোলে রাসপূর্ণিমা পাবো,
মিষ্টির রেশ যেমন রেখেছো ঠোঁটে,
আগুনের আঁচ তোমাকে বদলে দিলো;
আরও কাছে এলো স্বপ্নিল অবয়ব
কাজের গোপনে কমলো রক্তচাপ,
ইকুয়েশনের দুটো রুট আসছিলো।
"এমনিতে আমি প্রায়ই লুকিয়ে দেখি
তোমার হিয়ায় আমার ছায়া কি ভাসে
এত দ্রুত কেন বিকেল ফুরিয়ে আসে
স্বপ্ন তোমাকে ছোঁয়ার জন্য রাখি"
অঙ্ক বলছে হারায় না কোনো মজা -
সব ঠিক থাকে,অংক সূত্র মানে।
শক্তির খোঁজ পাই সূর্যের টানে -
চাকা চালিয়েছি চাঁদের দিকেই সোজা।
Second law: Entropy of an isolated system which is not in equilibrium will tend to increase over time.
বুকের ভেতর ঝলসে ওঠে জ্বালিয়ে দেওয়া খিদে;
গরম মোচড় গা খাটিয়ে কাজ করিয়ে নেয়
(সময় খোঁজে সুযোগ মতন শরীর নিয়ে খেলা)
টের পাইনি কাজের ফাঁকে ইচ্ছে পালটে গেল।
সেমিস্টার ফুরোলে তাই সময় খুঁজে নিই;
যোগ বিয়োগে মিলিয়ে যাই লাভের পরিমাপ
এ সেকশন বি সেকশন ড্রয়িং মেলেনি,
প্রথম পরীক্ষাটার দিল চোতাতেই গরমিল-
রিপোর্ট তৈরী ক'রতে গিয়ে নষ্ট ল্যাবশিট,
কাজ হারিয়ে ছিঁড়ে গেছি, নষ্ট নোংরামি-
তোমার জন্য বর্ষাদিনেও একলা পুড়তে এসে
এখন কেবল চিনেছি তোর নীল জিনস্-এর ব্যাগ।
এর পরেতেও অনেক দুপুর ঝিলের জলে ডোবে,
মদনমোহন মুরলীধরণ শ্যামলবরণ হই
বুকের বাঁশি বেপথু সুরে, চন্দ্রাবলী কই?
ল্যাদ কাটাতেই সবচে' বেশি কষ্ট হয়েছিলো।
Irreversibility: Irreversible work done = entropy generation multiplied by ambient temperature = loss of available energy
আগুন জ্বালিয়ে রাখি,
কেবল তোকেই ডাকি,
ইশারায় দিবিনা কি উত্তর?
ভরসা খোঁজার দিন
চারপাশ উদাসীন
দু'চোখে রঙের নেশা- সুন্দর।
এখন তোকেই চাই
একথা জানাবো তাই
রেখে যাই স্বপ্নের আহ্বান
স্নানে পৌরুষ মেখে
তোর চোখে ছোঁয়া রেখে
ক্ষেতভরা যুদ্ধের সন্ধান।
বন্ধুত্বের ফাঁকে
ভেতরে লুকিয়ে রাখ,
হাসিটাও মুখে চেপে রাখ না।
পুরোটাই হেরে গিয়ে
কুলমান সব দিয়ে
গোকুলের গোপিনীর কান্না-
বাইরের উষ্ণতা
খোঁজেনি কোথাও ব্যথা
বেড়ে চলে বন্ধুর বিচ্ছেদ,
তোর নেশা বুক ভ'রে
উথালপাথাল করে
ভুল ছিল কবিতার সংকেত-
Thermodynamic Relationships: Entropy and enthalpy are related in any particular choice of control volume.
দিন ফুরোলে ঘুমের ঘোরে তোকেই খুঁজে যাই
দুচোখ আলোয় আঁকড়ে ধরে রাতের অভিমান,
অন্য যখন, মনের ভুলে হারিয়ে যেতে চাই-
অন্তরকে আঁকড়ে রাখে বন্ধু সবার টান।
সেম্-এর আগেই সাপ্লির ভয় অবসেশনে থাকে,
মাঝখানে দ্যাখ মস্তিগুলো মুখ ঘুরিয়ে যায়;
সময় যখন ডাকে,
নদীও তাই নাচতে শেখে, পাগলি তুই কোথায়?
আমার চোখের সামনে দেখি তোমরাও বদলাও
মাঠের ঠেক কাটিয়ে তখন রঙের চুক্তি হবে,
সেদিন কোথায় ভাসাই আমার হীনন্মন্যতা-গো,
এই আকাশের আলোয় আলোয় আমার মুক্তি কবে?
বিপন্নতার বিষাদ বাজে অনেক হৃদয় ঘিরে
তোর দু'চোখে ঝলসে উঠুক সবার সূর্যোদয়
সন্ধে এলে ফিরে-
লিখবো আমি চিরন্তন উত্তরণের জয়।।
এখানে
পথের দুপাশ ঘিরে সাদা হওয়া কুয়াশার জাল
ক্যাকটাস ফুটিয়েছে, কাছাকাছি বৃষ্টির ঢাল
আদিবাসী গ্রামটাও দুপুরের মায়ায়, আদরে –
এখানে অলস দিন ক্ষেত ছেড়ে ধরে চারপাই
ভিতরে আগল ঠেলে মুরগীটা বসেছে লাঙলে
অবাক শিশুরা আজও বিস্ময়ে বাস গুনে চলে
এই পথে যত নদী – আমি ভাবি সকলই কোপাই
অপার সবুজ জুড়ে লাল টিলা ঢিল ভাঙা মাঠে
চাহনি সীমানা ছেড়ে বিষণ্ণে বুক ছুঁইয়ে থাকে
চলার সামনে বসে তুমি দ্যাখো ওকে, না আমাকে
বাসের জানলা ধরে কবি ও কবির গান হাঁটে।
ডাইরী
অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমঘোর আঁকড়ে রাখে,
রোদ বোঝা গেলে সকাল সাজিয়ে দেয়
সবুজ সবুজ গাছ আঁকা,
ঠান্ডা কামড়ে – আহ্লাদের মতোই
প্রবল চুমুর মতো ভোরের চায়ের তৃষ্ণায়
ঠোঁট ফেটে ওঠে অসময়ে –
বেলা বড়ো হতে থাকে
নরম শরীরের মতো হাওয়া
সব মুছিয়ে দিচ্ছে
ডানদিক বাঁদিক, কুয়াশার পর্দায়
সবুজ গাছগুলো, ভিজে রাস্তা –
মেয়েদের ইস্কুল, দু-একটা নার্সারী
জংলা পাতাবাহার।
হঠাৎ মারুতির হর্ণে মনে হয়
ছবি তুলতে গেলে এক তৃতীয়াংশ মেঘ রাখা ভালো
বাকিটা গাছ আর রাস্তা, আর
ঝিঁঝিঁর ডাক আর মারুতির শব্দও,
তারপর বেলা আরও প্রৌঢ় হয়
দিন পড়ে আসে
দূরের আবছা বরফ আবছা নদী আরও ম্লান হয় –
ক্যাম্পফায়ারের মতো সন্ধে জ্বলে ওঠে
হোটেলের বন্ধ ঘরে।
পাহাড়ের গায়ে গায়ে মেয়েদের গন্ধ –
বরফের তীব্রতা নেয়।
আস্তে আস্তে রাত ঘন হয়ে এলো
মেঘ রোদ বৃষ্টি সমস্ত সরিয়ে দিয়ে
আমার স্বপ্ন আঁকড়ে ধ’রেছে
তোমার বাঙালী অবয়ব।