Saturday, January 29, 2011
মহাভারতের কথা
এইখান থেকে আমার ভারত দ্যাখার শুরু, অ্যামেরিকার বিশেষতঃ লুইসিয়ানার সমাজের প্রতিতুলনায়। আমি দেখছি অভিযাত্রী সমাজের এক উত্তরাধিকার, বন্দুকের বাঁটের থেকে রেড ইন্ডিয়ান রক্ত মুছতে যাঁরা রোববার রোববার চার্চ যেতে বাধ্য, আবার রক্তের প্রবাহে মিশে আছে গান ল, শিকার- এমন কী খোলা মাঠে মাং পোড়ানোর উদ্দাম বার্বিকিউ; আমি দেখতে পাচ্ছি শুক্রবার রাতের কে যে কার প্রেমিকা কে যানে পার্টি আর গ্রেট অ্যামেরিকান ড্রিম ভেঙে ভেঙে ফুটে ওঠা ক্রীতদাস প্রথার অবশেষ। আর, দুদিকেই তার আগের ইতিহাসটা ভুলে যাওয়া। অ্যামেরিকা নিয়ে বাজে বাজে কথাগুলো বললাম কারণ আমার বাজে থাকার জায়গা থেকে তুলনাটা আসছে, ভাল কথা চাইলে অজস্র বলা যাবে সেটাও বলে রাখলাম। যাই হোক, উল্টোদিকে আমরা ইতিহাসের অধীন, কম-বেশি মিলিয়ে কী করবো, কী করতে চাই আর কী কী করে থাকি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ইতিহাস দিয়ে, শুধু খাদ্যাভ্যাস দেখলে চোখে পড়ে, দেশের আদ্ধেকলোক নিরামিশাষী কেবলমাত্র তার পিতৃ-মাতৃবংশে কেউ আমিষ ভক্ষণ করেন নি বলে। আর এরকমটাই ধর্ম। ধর্ম অর্থে 'হিন্দু' নামের সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া শব্দটা বাদ দিয়ে বায়ুর ধর্ম, জলের ধর্ম, জীবনের ধর্ম - এই প্রসঙ্গে আসা ধর্মের কথা ভাবি, ছোটবেলা থেকে শুনেছি যা ধারণ করে রাখে, আর তা কখনওই রিলিজিয়ন হতে পারেনা। দেশের লোক ব্রহ্মবাদী থেকে তান্ত্রিক হয়েছে, প্রকৃতিপূজক থেকে বৌদ্ধ হয়েছে, বৌদ্ধ থেকে বৈষ্ণব-মুসলমান হয়েছে। রিলিজিয়ন পাল্টেছে কিন্তু ধরে রাখার ঐতিহ্য পালটায় নি। সেখানে ভারত খুব ব্যাপ্ত হয়ে যায়, কলকাতা থেকে ট্রেনে চড়ে দক্ষিণভারত গেলে মেদিনিপুরী ডায়ালেক্ট ক্রমশঃ উড়িয়া, উড়িয়া ক্রমশঃ দ্রুতছন্দে উচ্চারিত হতে হতে তেলেগু হয়ে যায়; কিন্তু মানুষ কোনও এক জায়গায় এক থাকে। এই এক থাকাটাই ভারতবর্ষ- একটা অসম্ভব দেশঃ জাতীয়তা বা সংস্কৃতি বা অর্থনীতিতে দেখলে রাজনৈতিক ভাবে এদ্দিন দেশটার এক থাকার কোনও কারণই ছিল না। অথচ এক আছে, অথচ এক আছে কারণ কোনও এক অন্তর্নিহিত ঐতিহ্য তাকে 'কী করিতে হইবে' বলে দিচ্ছে- বংশ পরম্পরায় শূদ্র বিন্দুমাত্র রক্তপাত না ঘটিয়ে সেবা করে যাচ্ছে তিন উচ্চবর্ণের। রবীন্দ্রনাথ বলছেন 'য়ুরোপ খুব করে হতে চাইছে, আর আমরা চাইছি ভবের বন্ধন কাটাতে, না হয়ে যেতে'। আমরা দীন হতে চাইছি, বৈভবকে ঘৃণা করছি, এমনকী চারপাশের লোকজন আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকালে লজ্জায় মাথা নিচু করছি। এই না হওয়াটা আমার এখানে এসে বোধে এল। পার্টিতে-উৎসবে চারপাশের লোকজনের থেকে নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে রাখা কিম্বা পুরোপুরি ভিড়ের মধ্যে লক্ষ্যের বাইরে থাকা একজন হওয়াটাই আমাদের আরাম-অঞ্চল। নিজের আনন্দ নিয়ে উচ্ছ্বাস আমাদের কাছে অতি-উচ্ছ্বলতা। নিজেকে ঢেকে রাখা হয়তো সবসময় সাপ্রেশনও নয়, ভেতর থেকে আসা কিছু। আমার কাছে ভারত বিস্তার করেছে এই না হয়ে ওঠার জায়গাটাতেই। ভূমণ্ডল এবং তদোর্ধএর অধিকারী সবিতার কাছে আমরা জ্ঞানসাধন প্রার্থনা করছি, জেনে বা না জেনে গায়ত্রী মন্ত্রে। আর ভারতের টিকে থাকা এই জ্ঞানসাধনে, সেখানে অগ্রাহ্য করা হয় মুহূর্তের উন্মাদনা, মানুষের বানিয়ে তোলা রূপরসগন্ধের কামনা, আনন্দের পশ্চিমি সংজ্ঞা। এই জন্যই তিনহাজার বছরের ইতিহাসে ভারত কখনো বিদেশে সৈন্য পাঠাতে পারেনা (শ্রীলঙল্কা কলোনাইজ় করতে অশোককে সৈন্যর বদলে শ্রমণ পাঠাতে হয়, সে অধিকার জ্ঞান-এর অধিকার বলেই) , নিজের যাবতীয় দুঃখ কষ্ট স্বত্ত্বেও দলিত পারেনা ব্রাহ্মণের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে। কারণ, এর সবগুলোতে নিজেকে বড়ো বেশি পাত্তা দেওয়া হয়ে যায়। কমিউনিটি হিসেবে এই নিজেকে নিজের ভিতর লুকিয়ে ফেলার মধ্যে বেশ বড়ো ধরণের একটা দেশ গড়ে ওঠে, যাঁরা ধর্মাচরণ করে যান জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে- ঘুম থেকে উঠে সূর্যপ্রণাম যেমন ধর্ম, সহমানুষের গায়ে পা লেগে গেলে নমস্কার করাও তেমনই ধর্ম সেখানে। আর, আরও বড়ো ধর্ম পার্থিব সুখভোগকে অগ্রাহ্য করার, কারণ তাঁদের মনে হয় ইন্দ্রিয়দমনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবী বা তারও বাইরের জিনিসগুলিকে বুঝে উঠতে পারার ম্যাজিক।
যাই হোক, এটা একটা উপলব্ধি, ভারত নামের অসম্ভব দেশটাকে ভারত থেকে বাইরে থাকার যন্ত্রণা নিয়ে একভাবে বোঝা, একভাবে ফ্যান্টাসাইজ় করাও- তবে এদেশ মহান নয়- এখানে খাপ পঞ্চায়েত থেকে বিনায়ক সেনের জেল সবই হয়। আর ভারত মানে শুধু আসমুদ্রহিমাচল ভূখণ্ডটিও নয়- খোদ অ্যামেরিকাতেও অনেক টুকরো টুকরো ভারত দেখেছি- দুহাজার বছরে দেশের ব্যাপ্তি খুব কম হয়না
Tuesday, December 7, 2010
দু-প্যান্ডেলের মাঝখানটায়
আবার, মফস্বল ছেড়ে শহর কলকাতায় ঢুকলে এইসব জায়গায় কোনও বেচারী হোমগার্ড-কে ডিউটি দিতে দেখবেন, যে চ্যাংড়াটা এক্ষুণি জিগেশ করে গ্যালো ‘মামা, জগুবাজারের অটো কোনখান থেকে পাবো?’ তার উদ্দেশে দাঁতে দাঁত চেপে বলছে – ‘আমি তোর মায়ের ভাই হই এই গ্যারান্টী কোদ্দিয়ে পেলি শুয়ারকা’। একথা সবাই জানে ওই ভদ্রলোকের কাছে খৈনি আছে এবং অটো কোন রাস্তায় যায়, তা তিনি জানেন না। তবে অনুরূপা এবং তার গার্লস কলেজ দলবল ওনাকে দেখে বড়ো ভরসা পেয়েছে, এসব রাস্তায় পুজোর দিন হলেও কেমন গা ছমছম করে কিনা, স্পেশালি কয়েকটা হোস্টেল কাটিং ছেলে পদ্মপুকুরের লাইন থেকেই যে ভাবে অ্যাটেম্পট নিচ্ছিলো। আপাতত বোধিস্বত্ত্ব এইখান দিয়ে হনহনিয়ে, রাদার বলা ভালো দৌড়েই যাচ্ছে, ম্যাডক্সে লোকজন গোল হয়ে বসবে, অলরেডি একঘন্টা লেট, সুদীপ্তা কার সঙ্গে গপ্পো জুড়ে দিলো কে জানে, আর উলটো দিল থেকে তুমুল ঝগড়া করতে করতে সৌমিতা-রাণা হেঁটে আসছে; সৌমিতা হয় এই শেষ কথা বললাম বলে তুমুল চেঁচাচ্ছে (হোমগার্ড সাহেব বেশ আমোদ পাচ্ছেন এতে) অথবা জাস্ট কোনও কথাই বলছে না, রাণা-কে তো বলেই দিয়েছে, আমি আলাদা আর তুই আলাদা ঘুরছি, এর পর আর কথা বলারও কিছু নেই। আর প্রথম নাইট আউট করবে বলে অনির্বাণরা পথে বেড়িয়েছে, সুযোগের সদ্ব্যাবহার করে সন্দীপন অলরেডি দুপেগ মেরে দিয়েছে, বোতলটা দিব্যেন্দুর ব্যাগে, এখন কিছুতেই বের করা যাবেনা, ভোররাতের দিকে একটা পার্কমতন জায়গা দেখে উল্লাস করতে হবে কিনা! কিছু মামণি, যাদের দেখে এই পাড়ার-ই মনে হ’লো ঝলমলে শাড়ী পরে হেঁটে যাচ্ছে, বিভাস বুঝে উঠতে পারলোনা দু লাইন গান গাওয়া রিস্কি হয়ে যাবে কিনা! এসবের মধ্যে দেখবেন একটা প্রাইভেট কার বিশ্রী হর্ণ বাজিয়ে বেমক্কা জোরে বেড়িয়ে গ্যালোঃ কাকু কাকিমা ভাই-বোনদের নিয়ে সারারাত ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছেন। জ্যাম এড়ানোর জন্যে ড্রাইভার এই রাস্তায় ঢুকলো এবং ওয়ান ওয়ে দেখে আবার বেড়িয়ে যাচ্ছে- কাকিমা চেঁচিয়ে গাড়ি দাঁড় করালেন, মিনারেল ওয়াটার কিনবেন। আর কিছু আরবিট মাল আছে, যাদের পুজোর সময় ঘোরার লোকজন নেই, এদিকে বাড়ি বসে থাকা বা ভীড়ের প্যান্ডেলে ঢোকার ধকও নেই, তারা এইসব নির্জনতায় knowing thyself করতে থাকে, এদের সঙ্গে এই সময়ে পাড়ার পাগল-পাগলিদের আচরণগত মিল পাওয়া যায় যদিও পোষাকের ফারাক সহস্র যোজন। সুতরাং এইসব রাস্তাকে আমি আপনিও বিশেষ পাত্তা দিই না, মাছের কাঁটার মতো সযত্নে অতিক্রম করে যাই – যদি উত্তর কলকাতার দিকের এই ফোঁকরগুলোতে ঢুকে পড়ি, সেখানকার নির্জনতা আবার অন্যরকম, জীবিকার সন্ধানে ছায়ামূর্তি আর দেহাত থেকে আসা কূর্ম্মাবতারের কাছে পুজোটুজোর সেরকম মানে নেই হয়তো। ফলে দুটো পুজোর মাঝখান বলে আপনি যেটাকে দেখবেন সেটা বছরের বাকি ৩৬০ দিন ঐরূপেই থাকে, পার্থক্যটা হলো সম্ভবতঃ ঐসব গলিপথে সেইদিনগুলোয় এই রাতদুপুরে আপনি হাঁটেন না। শুধু আজকের দিনটায় এক প্যান্ডেলে ফসিলস আর আরেক প্যান্ডেল থেকে স্বর্ণযুগের গান এই মাঝখানের খাঁজটায় এসে সাইকোডেলিকালি মিলে যাচ্ছে, তাই আমার আপনার ও হঠাৎ প্রতিমা ও জ্যান্ত দুর্গা দ্যাখার বাসনাটা হারিয়ে যেতে বসছে, নির্জনতাটা চেপে বসছে মাথার ভেতর, নেশার মতন আর এই ঠাকুর দ্যাখার দল থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে গঙ্গার পারের দিকে হাঁটা লাগাতে ইচ্ছে করছে।
যদিও আপনার সামনে উৎসবময়ী কলকাতা এই মুহূর্তে বাস্তবতার আদল নিয়ে নিয়েছে – এই পুজোর মাঝখানের নির্জনতায় যে বাকি বছরটা কাটাতেই হবে, সেই ভেবে স্বস্তি বোধ করছেন না?
Tuesday, September 21, 2010
কালো বেড়াল
তোমার জন্যেই সব্বাই বেঁচে আছি
শুধু, শুধু তোমারই জন্যে
হিসেবের খাপে বেশ দিনগুলো আছে
কখন তুমি এসে আঁচড় দিয়ে যাবে
ঊরুতে চামড়া ছিঁড়ে মাংসের রক্ত দ্যাখাবে
এমন-ই জীবন;
আর সেই জ্বলুনির মুখে
কান্নারও অজুহাত লাগেনা।
ও কালোবিড়াল, শুধু এই ভেবে
এই সময়ের পথে হাঁটা
সব্বারই
কোণার দরোজা থেকে ওই তুমি উঁকি মারো
টিভি সিরিয়ালে ঘেরা এইসব জীবনের মাঝে
কখনও বাস্-এর চাপা দেওয়া
কখনও বা হসপিটাল- ফিনাইল-গন্ধের সাঁঝ,
ও কালো বেড়াল,
সবাই তোমাকে দ্যাখার জন্যে, ওখানেই বসেছে সবাই
মরে যাওয়াটার ঠিক আগে
Monday, June 7, 2010
সমুদ্র ও পাঁচজন আমি
সমুদ্র ও পাঁচজন আমি
(১)
রাতের ঝাউয়ের বন ঘেঁষে বালিয়াড়ির পাদদেশে ধিকধিক বনফায়ার, ওদের পাঁচটা মুখে আগুনের লাল লেগেছিল- এখন আর পাঁচটা মুখ নেই, বিয়ারের তোবড়ানো ক্যান হাতে গোড়ালি ভেজানো ঢেউয়ে আমি-
এ সমুদ্র এমত বেহায়া- তেমনই ওরাও পাঁচজন বন্ফায়ারের হাহা- পাঁচ কেন, ওরা চার, দুজোড়া কপোত-কপোতিনী, আমি তো ব্রাত্য ওই দলে, তবুও তো লোক চাই, দর্শক; নিজেদের প্রেমগুলো নিয়ে দর্শক না দেখলে ফ্যান্টাসি মেটেনা ওদের। ওরাও সমুদ্রের মত- ওই সমুদ্র, চাঁদের জলের রিফ্লেকশন ফসফস ব’লে ভুল হতে থাকে, হাওয়ায় পেট ফাঁপে ছেঁড়া ক্যারিব্যাগ যেন জেলিফিশ- এই সমুদ্র, চাঁদের আলোর পথ করে দেয় মানুষের কাছে, আমার কাছেও- লুনাটিক স্পৃহা সব সেই পথ ধরে হেঁটে গিয়ে অতলে তলিয়ে মরে যায়, মরে, তবু বেঁচে ওঠে তবু এই সমুদ্রের ধারে কাঠের আগুন থেকে হাওয়া বেয়ে ছিটকিয়ে যায় জ্বলন্ত জৈবযৌগ, ব্রেনের পাকগৃহ ঘিরে জৈব রিঅ্যাকশন হয়ে চলে, এসে পড়ে অসহ্য অতীত। এমনই সমুদ্র তার গাঢ় সব দুপুরের বেলাভূমি, স্নানের গহীন আর সেই সব কথা যেগুলো উহ্য রেখে সরে গিয়েছিলো আমার এইখান থেকে, আর কিছু ভাবিনা, আর কোনও স্বপ্ন দেখিনা, আর কোনও কান্না রাখিনি আগুনে- এই সমুদ্র তার ঢেউয়ে ঢেউয়ে, ফ্যানায়, ঝিনুকে শরীরে ছুঁইয়ে দেয় অভুক্ত ফুলের বাগান। ফলের পসরা ছাড়া এ জীবন ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, তাই, বৃষ্টি শুরুর আগে সমুদ্র আমাকে বাড়ি ফেরার বাসে তুলে দেয়।
(২)
এই সমুদ্র ওকে আমার জীবনে জুড়ে দিলো তাই আমি সেদিনের রোদ মনে করে রাত্রিনীল বালির মাঝে ক্যাম্পের আগুন জ্বালালাম। মাথার ওপর দিয়ে চুরি ক’রে স্নান দ্যাখা ঝাউয়েদের দীর্ঘশ্বাস সব, আগুনের ফুল ওড়ে, ওর মুখে গিয়ে বসে উজ্জ্বল প্রজাপতি হয়ে, দারুণ আদর পেয়ে যায় আমাদের সেই কথা গুলো, বড়ো অনুচ্চারে, না শোনার মত করে আঙুলে আঙুল রেখে বলা। বৃষ্টি ভরা সাগর আমার, কেবল তোমারই নামে এঁকে যাবো প্রবল চুম্বন, প্রবল সমুদ্রস্নান, প্রবালের রঙ মনে পড়ে, মনে পড়ে আঙটিতে ঢুকে থাকা কিচ্কিচে বালি অহৈতুকী আধুনিক গানে এই সমুদ্রে এক দিন। একদিনে দুখানি অপর আরও কতো কাছাকাছি এসে যায়, তটবর্তী পাঁচিলের পথ ফাঁকা হয় তখনই নিজের মধ্যিখান থেকে সব আমি ডুবে মরে গিয়ে সেই একজন জেগে ওঠে, গভীর রাত্তিরে ঘুম থেকে উঠে আমি তাকে ভেবে প্রণত হলাম।
###########################################################
ওই পেলিক্যান, শূন্য বিকেল জুড়ে
স্নানখেলা দেখে চলো,
তোমারও অতীত মনে পড়ে।
প্রতিটি বিকেল তার অতীতের
নিঃসঙ্গতা মেখে থাকে অবিরাম ঢেউয়ে।
পেলিক্যান, তুমি জানো নাকি
যখন সবাই শুয়ে পড়ে
এই সাগরের তীরে
অথবা, অন্য কোনওখানে
অন্য তটদেশে বা অন্য কোনও
নিস্তরঙ্গতা জুড়ে
পুরানো হাসির স্বর, ভুলে যাওয়া হাস্কি ভয়েস-
অবিরাম একা একা ঢেউদাগ ধ’রে
পথ হাঁটা- সবই থেকে যায়।
পেলিক্যান, তুমি দেখো, মনে করো
সানরাইজের ভীড়, গুরুভার সূর্যপ্রণাম
আঁচলে যে রঙ লুকিয়েছে
তুমি জানো পেলিক্যান, অন্ততঃ
তোমাকে তো জানতেই হবে
এই সাগরের মতো সেই প্রেমও শরীরিনী
পুরোপুরি রক্তমাংসময়।
(৩)
ঝিরঝিরে বৃষ্টির পথ, কিম্বা ছিটে আসা নুনজল, যার মেমরিতে এখনো কোডেড আছে চোখের গ্রন্থিঘ্রাণ। এই পথ ধ’রে একবার তোকে পেয়ে গেছি, তাই প্রতিটি পদক্ষেপে সর্ষের দানা ছুঁড়ে দিই- এই বৃষ্টিতে সব ফুল ফুটে যায়, এই বালুচরে যেদিকে তাকাস দেখবি হলুদে ফুলে ফুলে এমন স্পষ্ট ক’রে তোর নাম লেখা- আমি ছাড়া কাউকেই ভাববিনা আর। যেমন আমিও। ওই যে দূরে দ্যাখ তারার মতই জলের প্রান্তে সেই আলোখানি জ্বলছে-নিভছে, ওখানেই নিয়ে যাবো তোকে, চারিদিকে জল আর রাত্রি, কাঠের আগুন- ঝলসানো তেলাপিয়া, পোড়াভাত জাহাজীর গুহা। ওইখানে আগুনের লালে তোর মুখে লেখা হয়ে গেলো মুক্তির দারুণ সত্তর। ওই মুখ দেখে যদি সত্যি পতাকা কোনও ভাবি- সেই নিশানকে ঘুম থেকে তুলে জাহাজের পথ ধরে ধরে সমুদ্রমথনে নিয়ে যাবো। মধুময় এমন রাত্তির, মধুঘেরা মুহূর্তখানি- এমনি দারুণ, এত বড়ো কিছু, শুধুই এরই তরে বাকি সবখানি, বিপ্লব, ঘরেফেরা, আর্তের চাকার কামনা- সব মুছে যায়- কেবল গলার কাছে পিরীত কাঁটাটি বিঁধে থাকে। প্রতি দুঃস্বপ্নেই ভাবি- যদি তুই ফেলে চলে যাস, সে কাঁটা ফিরিয়ে দিতে আমি, অনাগত এক সন্ধ্যায় সমুদ্রেরই কাছে নতজানু হবো।
##########################################################
ওহ্ গাংচিল-
হোটেলের নাম রেখে তটদেশে একঠাঁয়ে আছো
তুমিও তো ভূয়োদ্যাখা মাল
এই বেলাভূমি ঘিরে ওদের শরীর দেখে গ্যাছো।
ঝাউয়ের উলম্ব গুঁড়ি
ভেঙে দেয় গোটা ফ্রেমখানি
প্রকোষ্ঠে প্রকোষ্ঠে তার
আমি-রা বন্দী হতে থাকে-
আর ঠিক সেমুহূর্ত থেকে
প্রত্যেকখানি আমি ছিটকে স’রে যাচ্ছে
অতীতে বা না আসা ভবিষ্যে-
শুধু ওই দুজনের মাঝে
প্রেম জেগে আছে বলে
প্রেমময় অপার দয়ায়, দ্যাখো গাংচিল, দ্যাখো
আলাদা আলাদা খোপে, তবু,
একসাথে
এইসময়েই ওরা আছে-
(৪)
ভগবান আছেন বটেই, সমুদ্রতীরে এসে একথাই শুধু মনে পড়ে নাহলে এই ঢেউয়ের শীষে প্রথমদিনের গান জেগে থাকে, এমন মধুর নিয়তিতে এনট্রপি বেড়ে চলে চূড়ান্ত মৃত্যুর দিকে, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে যেই বিন্দু থেকে শুরু করে অনুরূপ কৌণিক অবস্থানে ফিরে আসে নিয়ত সময় বাদে অপরিবর্তনীয় ক্রিয়াপদ হয়ে সুন্দর জেগে ওঠে- ঝাউবন ছোঁয়া হাওয়া আমাদের তুচ্ছ কায়ায় সূর্যের স্মৃতি এনে দেয়- ভগবান আছেন বলেই। ভগবান আছেন বলেই, সৃষ্টির বংশগতি অপরিহার্য সেক্সকথা- যখন শরীরে শরীর এসে লাগে, প্রতি চলনেই তার নূতন শিহর জেগে ওঠে- ভগবান আছেন বলেই, পথ ও অজানা থাকে সময়ও পথের মতই, তারও অজানা একবাঁকে হাত ধরে ফেলেছি তোমার। এখন আমাদের মধ্যিখানে প্রতিদিনই সবখেলা সমুদ্রের রঙে- সেসমুদ্র বিভাজিত হয়, পথ কেটে স্মিত হাসেন গুরুদেব- যুগ্মমস্তকে যুক্ত করেন আশীর্বাদ তাঁর। আর সেই প্রত্যেক ভোরের সমুদ্রে, মঙ্গলঘট হয়ে দিনভানু উদিত হয়েন। সমুদ্ররাত্রি তাঁর বালুকার বিস্ময়খন্ড আমাদের কথা ভেবে রেখে যান। ভোর হবে বলে, এই রাত্রির বুকে আমি, আর সব বন্ধুর মাঝে অদৃশ্য হয়ে যাই, তোমাকেও অদৃশ্য করি। সৃষ্টির শাশ্বতরূপে শুধু এই দৃশ্যমান তটভূমে, ঢেউয়ের উপমা নিয়ে আমি, তুমি, আমরা ম্যাজিক হয়ে যাই।
############################################################
পেলিক্যান মরে গ্যাছে কাল।
না, কোনও শিকারীর বন্দুক নয়, ভাইরাস নয়,
শুধু এক আচমকা ঢেউয়ের আঘাতে
উহার হৃদয় থেমে গ্যাছে।
পচে ওঠা পাখিশব আমাদের সমুদ্র
আজ রাতে ফিরিয়ে দিয়েছে
তাই, হোটেলের ফলক থেকে বেরিয়ে এসেছে গাংচিল
ঠোঁটে করে বালি নিয়ে যায়
তরঙ্গের অন্তিম দাগটিতে
পেলিক্যানকে সমাহিত করে সে-
(৫)
এইসব পাব্লিক শালা, কাজ নেই অকুন্ঠ-সময়খানি তাই অপরের ব্লুফিল্ম রচনায় নিবেদিতপ্রাণ- আর দেখো সারা বছরের ভারে কচ্ছপপিঠ বেঁকে গ্যালো, একটাই সপ্তাহান্ত সাগরসমীপে এসেছিনু। মাছভাজা, বীয়ার আর দুবেলার নুনমাখা চান- এরমাঝে এই মাল-এরা অন্যের প্রেমখানি ধরে, ধ’রে বা বানিয়ে নিয়ে নিজেদের চাহিদামতোই আমার গায়েতে ছুঁড়ে মারে- সমুদ্র, বস্ আমি তো ব্যাপক ছিলাম, তোমাতে আমাতে, বেশ বোঝাপড়া আর মস্তি বা লুকিয়ে পালানো- আমি তো বলিনা কিছু গোপনে লুকিয়ে যা যা চাই। সেসব সরিয়ে রেখে এই যে আরোপিত প্রণয়খানি, বড়ো দুঃসহ লাগে- বড়ো বেশি গুরুভার বেঁকে যাওয়া কচ্ছপ পিঠে- ওই শালা চুতিয়ারা বুঝবেনা, শুধু তুমি, আর, এমন বালের রাত নয়, দুপুরের সূর্য যেই জলে ভেজা বালিতে পিছলে ওদের অন্ধকার করে দেবে তখনই তো শুরু হবে আমাদের আদানপ্রদান। তোমারও কি কম চাপ সোনা- তুমিও যে আমারই মতন- জোয়ারের ক্ষণে তাই জেলেবস্তির কাছে চলে গিয়ে, হোকনা দুপুর, মাল আর মাছভাজা খাবো। সেই ভালো, এইসব ন্যাকাপনা বন্ফায়ার আর ততোধিক চোতা মারা পেরেমের মুখে স্নিকারের তলা ছুঁড়ে মারি। দুটোদিনই এবছরে বাঁচার সময়, ওইসব প্রেমট্রেম মুছে দাও গুরু- চোখ মুছে আমি জুতো খোলা খালি পায়ে তোমার শরীরে নেমে যাবো।
Wednesday, June 17, 2009
পার্কস্ট্রীট
বন্ধুরা তোরা কেউ ঠিক বুঝেছিলি?
বাড়িতে কারুর-ই জানবার কথা নেই
সেদিন প্রথম রোদ্দুর উঠেছিলো।
ছেলেটাও তাই ইস্কুলে যায়নি
এর আগে শুধু একদিন-ই সিনেমায়
সেদিন তো সব বন্ধু-ই গিয়েছিলো
বাড়িতে কি রোজ সবকথা বলা যায়?
বন্ধুরা, তোরা পাসনি খবরটাও
জানুয়ারী শেষে বসন্ত হাওয়া দিলো।
এক একটা দিন ক্রুসেড জেতার পর,
রবীন্দ্রনাথ, আমরা সবাই রাজা
অতো সকালে তো মেট্রো চলেনা, তাই,
ভিক্টোরিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছে হ’লো।
এর পরে থাক গল্পের বাকিটুকু
স্বপ্নের দেশে ডটপেন চলাচলে
ইচ্ছে মতন শেষ থাক, শুরু থাক
দরকারে থাক এখান থেকেই চলা,
দু’পাশে থাকুক ঘুমভাঙা পার্কস্ট্রীট
ব্যস্ততা নিয়ে জাগছে অফিস পাড়া
ইস্কুলে এই পড়া শুরু হ’লো ব’লে –
ফুটপাথে থাক হকারের সম্বিৎ
রাস্তায় থাক সাদারঙ বিদেশিনী,
জিজ্ঞাসু চোখ খুশির শহর খোঁজে
ক্যামেরার লেন্স খুশি হতে সেইদিন
ফোকাস করলো, স্কুলকাটা ভালোবাসা?
কেউ-ই জানেনা গল্পের শেষকথা
কবিতার বুকে বিগ-ব্যাং আছে, থাক
গাছের পাতায় সবুজ রঙের নেশা,
নেশা-নেশা ঘোর এটুকু-ই বলে দিলো
এই পথ ধ’রে পথ হাঁটে কলকাতা -
Sunday, May 31, 2009
তৃতীয় পুরুষ
বাকি সব কথা ভুলে যাচ্ছে মন
দ্যাখো, এখনো অন্যরা সুযোগ মত হাতের পাতায়
ঘটনা পরম্পরা লিখে যায়
আর, এই তটে
পাড়-ভাঙা স্তব্ধতা –
মাটির কাছে, ঘাসের ভিতর সমস্ত বিছিয়ে দিয়েছি
যদিও আমার কাছে কোনো গল্পই ছিলনা,
চুম্বকগুলো সব জমে হিমবাহ হ’ইয়ে গ্যালো।
ওদিকে দ্যাখো,
নষ্ট সময় সন্ধ্যে এলে আরও একলা হ’য়ে পড়ে
অথচ এই সব ছেড়ে দেবো ব’লেই তো
হাত তুলি বন্ধুর দিকে,
বিকেলের ক্যান্টিনে –
না হয় আমার কোনও গল্প নেই কোনও গানও নেই
তবু, কবিতার শেষে কেন একটু নাচেরও অবকাশ থাকবে না!
আবারও সেই ভরসায়
বন্ধুর দিকে দুটো হাত বাড়াই আর,
সবকিছু নষ্ট হ’য়ে আসে
মাথার ভেতর চাষের জমি খরায় ফেটে অঠে
লাঙল সত্যিই বেড়িয়ে যায় মুঠোর থেকে
আর, সমস্ত দিন হার স্বীকারের পর
তখন, সময়েরও ঘেন্না করে।
Tuesday, May 26, 2009
Thermodynamics
ধর্মে কিছু মিল খুঁজে নিই মানুষ এবং গ্যাসে,
পাগলামির এ প্রস্তাবনা পাঠক্রমেই আসে।
গ্যাস শুধু নয় - সবাই যারা চাপ ফেরাতে জানে,
অংক বোঝে, বড়ো কথা, হিসেবগুলো মানে।
শুদ্ধ থাকে, প্রাণপণে তাই, সূত্রে যত বলে
এদিক ওদিক বাওয়ালি হয়, বুক বাঁচিয়ে চলে।
আমরাও তো প্রায় অতটাই গুণে সাধারণ
এত কিছু কাটিয়ে এলাম, চমকালো না মন।
অ্যাই ছেলেরা, হিসেব ক'ষে বসবি ঝিলের ধারে -
(হিসেবগুলো, মেয়ে দেখলে, আওয়াজ দিতে পারে?)
প্রশ্নপত্র বাতিল রাখি, কবিতা নামুক
ভর-টিফিনের ক্যান্টনেতে, আবছা কোনো মুখ।
থাকলাম তাই, অর্থ মেনে পুরোটা কঠিন
ভোর ছোঁয়ালে তরলমতি - গললো নতুন দিন।
হঠাৎ লাগে অন্য বাতাস, সেই কি তোমার ছোঁয়া?
ফুটে ফুটে বাষ্প হলাম - এবার পুরো হাওয়া -
প্রথম দিন, প্রথম বার, গুছিয়ে ঝাঁরি মারা
অ্যাই বেতমিজ, কত দেখছিস! এবার চোখ সরা -
চোখ সরালাম, পথ হারালাম মন সরাতে গিয়ে
ফ্রাস্টু-কাব্য তাই লিখে যাই স্বপ্নের ভুল নিয়ে।
First law: Heat given = work done + change in internal energy
তোমাকে ভালোবেসে আগুনও জ্বলে ওঠেঃ
সবকিছু জিতে আমরা এগিয়ে যাবো -
রাস্তা ফুরোলে রাসপূর্ণিমা পাবো,
মিষ্টির রেশ যেমন রেখেছো ঠোঁটে,
আগুনের আঁচ তোমাকে বদলে দিলো;
আরও কাছে এলো স্বপ্নিল অবয়ব
কাজের গোপনে কমলো রক্তচাপ,
ইকুয়েশনের দুটো রুট আসছিলো।
"এমনিতে আমি প্রায়ই লুকিয়ে দেখি
তোমার হিয়ায় আমার ছায়া কি ভাসে
এত দ্রুত কেন বিকেল ফুরিয়ে আসে
স্বপ্ন তোমাকে ছোঁয়ার জন্য রাখি"
অঙ্ক বলছে হারায় না কোনো মজা -
সব ঠিক থাকে,অংক সূত্র মানে।
শক্তির খোঁজ পাই সূর্যের টানে -
চাকা চালিয়েছি চাঁদের দিকেই সোজা।
Second law: Entropy of an isolated system which is not in equilibrium will tend to increase over time.
বুকের ভেতর ঝলসে ওঠে জ্বালিয়ে দেওয়া খিদে;
গরম মোচড় গা খাটিয়ে কাজ করিয়ে নেয়
(সময় খোঁজে সুযোগ মতন শরীর নিয়ে খেলা)
টের পাইনি কাজের ফাঁকে ইচ্ছে পালটে গেল।
সেমিস্টার ফুরোলে তাই সময় খুঁজে নিই;
যোগ বিয়োগে মিলিয়ে যাই লাভের পরিমাপ
এ সেকশন বি সেকশন ড্রয়িং মেলেনি,
প্রথম পরীক্ষাটার দিল চোতাতেই গরমিল-
রিপোর্ট তৈরী ক'রতে গিয়ে নষ্ট ল্যাবশিট,
কাজ হারিয়ে ছিঁড়ে গেছি, নষ্ট নোংরামি-
তোমার জন্য বর্ষাদিনেও একলা পুড়তে এসে
এখন কেবল চিনেছি তোর নীল জিনস্-এর ব্যাগ।
এর পরেতেও অনেক দুপুর ঝিলের জলে ডোবে,
মদনমোহন মুরলীধরণ শ্যামলবরণ হই
বুকের বাঁশি বেপথু সুরে, চন্দ্রাবলী কই?
ল্যাদ কাটাতেই সবচে' বেশি কষ্ট হয়েছিলো।
Irreversibility: Irreversible work done = entropy generation multiplied by ambient temperature = loss of available energy
আগুন জ্বালিয়ে রাখি,
কেবল তোকেই ডাকি,
ইশারায় দিবিনা কি উত্তর?
ভরসা খোঁজার দিন
চারপাশ উদাসীন
দু'চোখে রঙের নেশা- সুন্দর।
এখন তোকেই চাই
একথা জানাবো তাই
রেখে যাই স্বপ্নের আহ্বান
স্নানে পৌরুষ মেখে
তোর চোখে ছোঁয়া রেখে
ক্ষেতভরা যুদ্ধের সন্ধান।
বন্ধুত্বের ফাঁকে
ভেতরে লুকিয়ে রাখ,
হাসিটাও মুখে চেপে রাখ না।
পুরোটাই হেরে গিয়ে
কুলমান সব দিয়ে
গোকুলের গোপিনীর কান্না-
বাইরের উষ্ণতা
খোঁজেনি কোথাও ব্যথা
বেড়ে চলে বন্ধুর বিচ্ছেদ,
তোর নেশা বুক ভ'রে
উথালপাথাল করে
ভুল ছিল কবিতার সংকেত-
Thermodynamic Relationships: Entropy and enthalpy are related in any particular choice of control volume.
দিন ফুরোলে ঘুমের ঘোরে তোকেই খুঁজে যাই
দুচোখ আলোয় আঁকড়ে ধরে রাতের অভিমান,
অন্য যখন, মনের ভুলে হারিয়ে যেতে চাই-
অন্তরকে আঁকড়ে রাখে বন্ধু সবার টান।
সেম্-এর আগেই সাপ্লির ভয় অবসেশনে থাকে,
মাঝখানে দ্যাখ মস্তিগুলো মুখ ঘুরিয়ে যায়;
সময় যখন ডাকে,
নদীও তাই নাচতে শেখে, পাগলি তুই কোথায়?
আমার চোখের সামনে দেখি তোমরাও বদলাও
মাঠের ঠেক কাটিয়ে তখন রঙের চুক্তি হবে,
সেদিন কোথায় ভাসাই আমার হীনন্মন্যতা-গো,
এই আকাশের আলোয় আলোয় আমার মুক্তি কবে?
বিপন্নতার বিষাদ বাজে অনেক হৃদয় ঘিরে
তোর দু'চোখে ঝলসে উঠুক সবার সূর্যোদয়
সন্ধে এলে ফিরে-
লিখবো আমি চিরন্তন উত্তরণের জয়।।